ইমাম গাযযালী

আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল-গাজ্জালি (১০৫৮ – ১১১১) বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই ইমাম গাজ্জালী (রহ.) হিসেবে বেশি পরিচিত। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শিক্ষাবিদ ইমাম আল-গাজ্জালি ১০৫৮ সালে ইরানের খোরাসানের তুশ নগরীতে জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সে সময়ে ইরানের শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তিনি সমসাময়িক জ্ঞানী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ইসলাম ধর্ম প্রসারেও কাজ করেছেন তিনি। জ্ঞান অন্বেষণের জন্য তিনি দেশভ্রমণেও বেরিয়েছিলেন।

ইমাম গাজ্জালির সমগ্র ‘শিষ্যের প্রতি চিঠি’ -তে মহামূল্যবান অনেক জীবনোপদেশ রয়েছে।  এটি মূলত তার একজন শিষ্যের চিঠির জবাব। যাতে তিনি আটটি অমূল্য উপদেশ দান করেছেন।

তিনি এই চিঠিতে আপন শিষ্যকে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে চারটি কাজ করা হতে নিষেধ করেছেন এবং চারটি কাজ করতে উপদেশ দিয়েছেন। নিম্নে তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

১. বিতর্ক পরিহার

শিষ্যের প্রতি ইমাম গাজ্জালির প্রথম উপদেশটি হলো,  যথাসাধ্য সম্ভব বিতর্ক পরিহার করে চলা। বিশেষ করে, অজ্ঞ ও মূর্খ লোকের সাথে অযথা বিতর্কে জড়িয়ে পড়া থেকে বিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে আলোচনা এবং তার জ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য ইমাম তার শিষ্যকে উপদেশ দিয়েছেন।

 

 

 

২. খ্যাতি লাভের ইচ্ছা পরিহার

শিষ্যের প্রতি ইমাম গাজ্জালির দ্বিতীয় উপদেশ হলো, খ্যাতি লাভের ইচ্ছাকে পরিহার করা। কেননা, এটি মানুষকে মানুষের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুৎ করে এবং এর ফলে কাজের জন্য কাজ করার আন্তরিকতা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে না।

 

 

ইমাম গাজ্জালী রহ. এর বই সমগ্র pdf

 

৩. শাসকদের পরিহার

ইমাম গাজ্জালির তার শিষ্যের প্রতি তৃতীয় উপদেশ হচ্ছে, শাসকদের পরিহার করে চলা। কেননা তাদের সাথে যে কারো সংযোগ, মেলামেশা ও সামাজিকতা ওই ব্যক্তির জন্য জটিলতর ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

৪. শাসকদের নিকট থেকে উপহার পরিহার

পারস্পরিক উপহারের আদান-প্রদান অনুমোদিত হলেও শাসক এবং সমাজের উচ্চস্তরের ব্যক্তিদের নিকট থেকে উপহার ও অর্থকে পরিহার করার জন্য ইমাম গাজ্জালি তার শিষ্যকে উপদেশ দিয়েছেন। কেননা এর মাধ্যমে ব্যক্তি উপহার দানকারীর প্রভাবাধীনে চলে যেতে পারে।

 

 

 

৫. প্রত্যাশা অনুযায়ী আল্লাহর হক আদায়

আল্লাহর সাথে এমনভাবে সম্পর্ক তৈরি করার উপদেশ ইমাম গাজ্জালি তার শিষ্যকে দিয়েছেন, যাতে নিজের অনুগত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যাশিত সম্পর্ক অনুযায়ী এই সম্পর্ক গঠিত হয়।

 

 

 

৬ প্রত্যাশা অনুযায়ী অপরের সাথে আচরণ

নিজের জন্য প্রত্যাশিত আচরণ অনুযায়ী অন্যের সাথে আচরণ করার জন্য ইমাম গাজ্জালি তার শিষ্যকে উপদেশ দিয়েছেন।

রাসূল (সা.) এর হাদীস অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ঈমান সম্পূর্ণ হতে পারে না যদি না ওই ব্যক্তি নিজের জন্য যা চায়, অপরের জন্য তা না চায়।

 

 

 

৭. তা থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করা, যা ব্যক্তির জন্য উপকারী

যে বস্তু বা বিষয় তার শিষ্যের জন্য উপকারী এবং কার্যকর, শুধু তা থেকেই জ্ঞান অর্জনের জন্য ইমাম গাজ্জালি তার শিষ্যকে উপদেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ব্যক্তির জন্য জ্ঞান অনুধাবন ও আয়ত্ত্বাধীন করা সম্ভবপর হতে পারে।

 

ইমাম গাজ্জালী রহ. এর বই সমগ্র pdf

 

৮. পৃথিবী থেকে শুধু প্রয়োজনীয় সম্পদ গ্রহণ

ইমাম গাজ্জালি তার শিষ্যকে দুনিয়া থেকে শুধু তার জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদটুকুই নেওয়ার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। অধিক সম্পদ মানুষকে অধিক জটিলতার মধ্যে নিক্ষেপ করে। এর ফলে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য পথও জটিলতর হয়ে পড়ে।

 

 

 

সূত্র: ওয়ানপাথ নেটওয়ার্ক

 

ইমাম গাজ্জালী রহ. এর বই সমগ্র pdf

 

বিঃদ্র- এই ব্লগে প্রকাশিত বইগুলো আমাদের রচিত বা সম্পাদিত নয় তাই বইগুলোর কোথাও কোনো ভুল বা বিভ্রান্তকর কিছু লেখা থাকিলে এর জন্যে আমরা দায়ী নই ।অনেকে ইসলামী বই এর নাম ইসলাম বিরোধী বা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক অনেক যুক্তি তর্ক দিয়ে বই লিখে থাকেন। তাই যেকোন বই পড়ার সময় নিজের বিচার বুদ্ধি খরচ করে পড়বেন।

অনেক ভাল ভাল লেখকের এমন যুক্তি পাবেন যা দেখলে আপনার কাছে সত্যি অনেক ভাল লাগবে বাস্তবে সেটা ইসলাম বিরোধী হতে পারে। অতি ভক্তি করে অতি রঞ্জিত করতে গিয়ে মানুষ আল্লাহর সাথে শেরেক করে ফেলে।

এই জায়গাগুলো নিজ দায়িত্বে বুঝে শুনে পড়বেন। আমরা শুধু আপনাদের সার্থে বই শেয়ার করে থাকি। কোন বই রিকোমেন্ট করি না। রিকোমেন্ডেড বই দুনিয়াতে একটাই আছে। সেটা হলো আল কুরআন।এবং নবীর সহি হাদিস।

আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে বই বা আর্টিকেল কালেক্ট করে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে উৎসাহ বোধ করি। তবে বলে রাখি সব সময় সব আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়া হয় না। বা আমাদের জ্ঞান অতটা পরিধি না যে আমরা সবকিছুই বুঝতে পারবো।আমাদের ওয়েবসাইটে একের অধিক মানুষ কাজ করে। মানুষ স্বতন্ত্র। তাই সার্টিকেল বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। আপনাদের কোন অভিযোগ থাকলে আমাদের contact ফর্ম এর মাধ্যমে জানাতে পারেন।

বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়।বেশি বেশি বই পড়ুন ,নিজেকে বদলে ফেলুন। বইয়ের জাদু অনেক বেশি। যারাই সফল হয়েছে তারা সবাই অনেক অনেক বই পড়েন। নতুন কিছু জানতেই বইয়ের বিকল্প নাই।সফল মানুষেরা কখনো বই পড়া থামায় না। তাই বেশি বেশি বই পড়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Warren Buffett প্রতিদিন ৬০০-১০০০ পৃষ্ঠা পড়তেন । তিনি বলেন –

” Read 500 pages like this everyday . That’s how knowledge works . It builds up , like compound interest. All of you can do it , but I guarantee not many of you will.“

ভেবে দেখুন তার মোট মানুষ কখনো বই পড়া থামায় নাই। আপনি আমি কেন থামাবো ?আপনি একবার পড়তে আনন্দ পেলে দেখবেন সব কিছু পাল্টে যাবে।